1
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণে জমি দিলেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক
পূর্ব বর্ধমান জেলার ছয়টি পৌরসভা ও ২৩ টি ব্লক এলাকায় পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে প্রতিটি এলাকার মানুষের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়নের কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের দাবির কথা বিবেচনা করে রাস্তা, ড্রেন, পানীয় জল, লাইট ইত্যাদি পরিষেবা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কাজ চলছে পূর্ব বর্ধমান জেলার খন্ডঘোষ ব্লকের সগড়াই অঞ্চলের বাদুলিয়া গ্রামে। এই গ্রামে বাদুলিয়া কবি সুকান্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা ঠিক মত ছিল না। এই কাজে সহায়তা প্রদানে এগিয়ে এলেন হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক দেবীপ্রসাদ পাল। তিনি নিজেরই মূল্যবান একটি জমি এই রাস্তা নির্মাণের জন্য দান করলেন। এই জায়গার উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে কাজের সূচনা করলেন দেবীপ্রসাদবাবু নিজেই। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসূন মন্ডল, সহশিক্ষক বাপন হাঁসদা, সহশিক্ষিকা আয়েশা খাতুন, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়, বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি অনিন্দম ঘোষ প্রমুখ। এই প্রকল্পের কাজে উপস্থিত থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন এলাকার উন্নয়নে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন। তাই পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ন কার্য সম্পন্ন হচ্ছে। সেই এলাকার মানুষের চাহিদা ও দাবি মেনে এখানেও সেই কাজ চলছে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি রাস্তা নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি ছিল। সেই কাজে হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক দেবীপ্রসাদ পাল এগিয়ে এসেছেন। এরজন্য আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই রাস্তা নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে ছাত্রছাত্রী সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যাতায়াত অনেকটাই সহজসাধ্য হবে।
2
জেলা ভলিবল ও বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাংবাদিক সভা
বর্ধমান শহরের অরবিন্দ স্টেডিয়ামের জমি আদালতের অধীনে বলে জানিয়ে এই এলাকায় আদালতের নতুন ভবন তৈরি করা হবে বলে জানানো হয় জেলা ভলিবল ও বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষকে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ভলিবল ও বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একটি মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে ২৭ জানুয়ারি বর্ধমান গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য প্রেস কর্ণারে এক সাংবাদিক সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ভলিবল ও বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি উজ্জ্বল প্রামাণিক, অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বনবিহারী যশ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এ প্রসঙ্গে বনবিহারী যশ জানান, বিগত ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এই অরবিন্দ স্টেডিয়াম খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, বর্ধমান পুরসভার সহযোগিতায় এবং এই শহরের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষদের উদ্যোগে এই স্টেডিয়ামের পরিকাঠামোগত উন্নতি সম্ভব হয়েছে। বর্তমান সময়ে এই ক্রীড়া প্রাঙ্গণে তিনটি বাস্কেটবল কোর্ট রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন আড়াইশোর বেশি খেলোয়াড় প্রশিক্ষণ নেন। বিগত দিনে এখানে জাতীয় ও রাজ্যস্তরের একাধিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়ে বহু জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় তৈরি হয়েছেন, যারা আন্তর্জাতিক স্তর পর্যন্ত নিজেদের দক্ষতায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে এমন অনেক ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন যারা এখানে নিয়মিত খেলাধুলা করেছেন। তাই এখানে আদালতের নতুন ভবন নির্মাণ হলে খেলোয়াড়রা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই বিষয়টি আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রীড়া জগতের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের কাছে। তাই তারা আদালতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন। বনবিহারী যশ জানান, প্রয়োজনে জেলা ভলিবল ও বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবে। জানা গেছে, এই বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও নথিভুক্ত হয়েছে।
3
এসআইআর নিয়ে সুপ্রীম কোর্টের রায় অবিলম্বে রাজ্যে চালু করার দাবিতে জামালপুর প্রতিবাদ মিছিল
দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চলছে এসআইআর এর কাজ। সেই কাজ সঠিকভাবে করার জন্য এবং নির্দিষ্ট কিছু দাবিতে রাজ্য সরকার সুপ্রীম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কেস করে। সুপ্রীম কোর্ট তাদের রায়ে নির্বাচন কমিশনকে কিছু নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ জরুরি ভিত্তিতে চালু করার দাবিতে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জামালপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহমুদ খানের নেতৃত্বে হালারা মোড় থেকে জামালপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়। ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ মিছিলে যোগ দেন। তাদের সঙ্গে মিছিলে পা মেলান বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মেহমুদ খান,সহ-সভাপতি ভূতনাথ মালিক, যুব সভাপতি উত্তম হাজারী,পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, মহিলা নেত্রী তথা জেলা পরিষদ সদস্য কল্পনা সাঁতরা,অপর এক জেলা পরিষদ সদস্য শোভা দে, শ্রমিক সংগঠনের ব্লক সভাপতি তাবারক আলী মন্ডল, ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিট্টু মল্লিক, ব্লক সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি ওয়াসিম মল্লিক সহ সকল অঞ্চল সভাপতি, প্রধান ও উপপ্রধানরা। মিছিল থেকে নির্বাচন কমিশনের হেয়ারিং এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। অবিলম্বে সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে এই দাবিও জানানো হয়। ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান জানান, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাদের নেতা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশে তারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছেন। তিনি দাবি করেন, অবিলম্বে বিডিও অফিস গুলিতে যে শুনানি চলছে তাতে সাধারণ মানুষ যে সমস্ত ডকুমেন্ট জমা করছেন তার অবশ্যই রসিদ দিতে হবে। শুধু তাই নয় তিনি বলেন যে এই হেয়ারিংয়ের কাজ প্রতিটা অঞ্চল ভিত্তিক করতে হবে। হেয়ারিংয়ের নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই দাবি না মানা হলে পরবর্তীতে দল যে নির্দেশ দেবেন সেই অনুযায়ী তারা চলবেন বলে তিনি জানান। বিধায়ক বলেন, দিল্লীর জমিদাররা ২০২১ সালে যেভাবে খালি হাতে ফিরেছিল ২৬ সালেও খালি হাতেই ফিরতে হবে তাদের। মানুষের এত হয়রানির জবাব বিধানসভা ভোটেই মানুষ দেবেন।


