এবার বর্ধমান উত্তরের তৃণমূলের বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের দ্বারস্থ বিজেপি নেতা সঞ্জয়


এবার বর্ধমান উত্তরের তৃণমূলের বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের দ্বারস্থ বিজেপি নেতা সঞ্জয়

এবার বর্ধমান উত্তর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিকের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপির ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী সঞ্জয় দাস। অভিযোগপত্রটি পাঠানো হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক , পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। ১৭ জুন করা এই অভিযোগপত্রে সঞ্জয় দাস সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, বর্ধমান উত্তরের তৃণমূলের বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও বিধায়ক হিসেবে প্রাপ্য ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষক হিসেবেও নিয়মিত বেতন গ্রহণ করেছেন। এর ফলে সরকারি নিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়েছে, বর্ধমান উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত সরাইটিকর সহ একাধিক পঞ্চায়েত এলাকায় নদী ও জলাশয় ভরাট করে জমি তৈরি এবং পরবর্তীতে সেই জমি বিক্রির মাধ্যমে আর্থিক লাভের অভিযোগ রয়েছে। এরফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিজেপি নেতার অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে নদী থেকে বালি উত্তোলন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বালি ব্যবসার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার ঘটেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে পরিবেশ ধ্বংসের প্রসঙ্গও। অভিযোগ করা হয়েছে, সমগ্র বর্ধমান উত্তর বিধানসভা এলাকা জুড়ে বহু পুরনো ও মূল্যবান গাছ বেআইনিভাবে কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এর ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
এছাড়া বিধায়ক তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ এবং বাস্তবে সম্পন্ন হওয়া কাজের গুণগত মানের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন, ব্যয় এবং কাজের মান যাচাই করে আর্থিক নিরীক্ষা (অডিট) করার দাবি জানানো হয়েছে।
সঞ্জয় দাস আরও অভিযোগ করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে না পৌঁছে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা এবং সামগ্রী বণ্টনের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে সঞ্জয় দাস বলেছেন, অভিযোগগুলি প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। যদিও অভিযোগগুলির বিষয়ে বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক বা তাঁর পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বর্ধমান উত্তর বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা কতটা এবং প্রশাসন এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।