আন্তঃ রাজ্য নারী পাচার চক্রের তিন অপরাধী ধৃত┃বাল্যবিবাহ রোধে সচেতন করতে পরিবেশিত হলো নাটক┃শুরু হলো ঈদগাহ নির্মাণের কাজ┃বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল অর্থে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান

1
আন্তঃ রাজ্য নারী পাচার চক্রের তিন অপরাধী ধৃত

আন্তঃ রাজ্য নারী পাচার চক্রের তিন অপরাধীকে ধরেছে বর্ধমান জেলা পুলিশ। এদের মধ্যে দুজনকে রাজস্থান থেকে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সভায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, গলসী এলাকার এক মহিলা ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের ১০ তারিখে গলসী থানায় অভিযোগ করেন তার মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে এই বয়ানে। এরপর গলসী থানার পুলিশ তাদের তদন্তের কাজ শুরু করে। পরবর্তী পর্যায়ে তদন্ত জেলা পুলিশের মাধ্যমে আরও অনেকটা এগিয়ে যায়। গত ডিসেম্বর মাসে রাজস্থানে অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে দুই ব্যক্তি রমেশ কুমার ও রমেশ মিনাকে ধরে বর্ধমান জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় সাথে যুক্ত মেমারি থানা এলাকার বাসিন্দা আর এক অপরাধীকে ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে বর্ধমান স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এদের সকলকেই আদালতে পেশ করেছে বর্ধমান জেলা পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কে কে যুক্ত রয়েছে সে ব্যাপারে তদন্ত করতে চায় জেলা পুলিশ বিভাগ। এই ঘটনায় যুক্ত জগদীশ বলে আরও একজন অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশী চালাচ্ছে পুলিশ।

2
বাল্যবিবাহ রোধে সচেতন করতে পরিবেশিত হলো নাটক

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের “কন্যাশ্রী” প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে গলসী -2 ব্লকের ‘কিশোরকনা নবগ্রামী আদর্শ বিদ্যালয়ের’ কন্যাশ্রী ক্লাবের ছাত্রীদের দ্বারা পরিবেশিত হলো “বাল্যবিবাহ বিরোধী” পথ নাটিকা “চেতনা”। গ্রামের দুই পাড়ায় এই নাটক পরিবেশিত হয়। এর মধ্যে দিয়ে এলাকাবাসীদের মধ্যে যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশারফ হোসেন রচিত এবং শিক্ষিকা শম্পা দে পরিচালিত “চেতনা” নাটিকাটি সমাজকে এই বার্তা পৌঁছে দিল যে ১৮ বছরের নীচে কন্যাদের বিবাহ দিলে তারা কিরকম শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রনার সম্মুখীন হয়। আয়োজকরা জানান, এ বিষয়ে অভিভাবক ও তাদের কন্যাদের প্রত্যেকেরই মধ্যেই একটা সম্যক ধারণা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাই এই নাটক পরিবেশন করা হলো।

3
শুরু হলো ঈদগাহ নির্মাণের কাজ

পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের নসিপুর গ্রামে ঈদগাহ তৈরীর কাজ শুরু হল। প্রসঙ্গত, এই গ্রামে ছিল না কোনো ঈদগাহ। বারবার গ্রামবাসীরা সরকারকে আবেদন করছিলেন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্যের মাইনরিটি দপ্তর থেকে এই ঈদগাহ তৈরীর জন্য প্রায় ২২ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। যার প্রথম কিস্তির ১০ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে। সেই ঈদগাহ তৈরীর কাজ শুরু হল। এই উপলক্ষ্যে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান। ছিলেন বেড়ুগ্রাম অঞ্চলের পঞ্চায়েত সদস্য তথা অঞ্চল সভাপতি সাহাবুদ্দিন শেখ ওরফে দানি, ওই গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য সিরাজুল ইসলাম, মৌলোনা সাহেব সহ অন্যান্য বিশিষ্ট মানুষেরা। মেহেমুদ খান বলেন, এই ঈদগাহের খুবই প্রয়োজন ছিল। রাজ্য সরকার সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে আছে। তাই মাইনরিটি দপ্তর থেকে টাকা দেওয়া হয়েছে ঈদগাহ তৈরী করার জন্য। সাহাবুদ্দিনবাবু বলেন, গ্রামবাসীদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল। তিনি নিজে, পঞ্চায়েত প্রধান, মেহেমুদ খান, বিডিও সাহেব সকলের চেষ্টায় আজ এই কাজ করা যাচ্ছে। মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এর ফলে মিটবে।

4
বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল অর্থে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান

নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির ব্যবস্থাপনায় মহেশগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাগৃহে আয়োজিত হল অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স প্রদান অনুষ্ঠান। নবদ্বীপের তৃণমূল বিধায়ক পুন্ডরীকাক্ষ সাহার উন্নয়ন তহবিলের টাকায় সিপিআইএম পরিচালিত মায়াপুর বামনপুকুর ১ পঞ্চায়েতের হাতে নতুন অ্যাম্বুলেন্স তুলে দেওয়া হলো। মায়াপুর বামনপুকুর ১পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান সওকত জাহানের হাতে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি তুলে দিলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন। বিধায়কের উন্নয়ন তহবিলের টাকায় সিপিআইএম পরিচালিত পঞ্চায়েতকে অ্যাম্বুলেন্স প্রদানের বিষয়ে নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা আয়েব নবি সেখ জানান, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আমি মনে করি শুধু এই পঞ্চায়েতই নয়,প্রতিটি পঞ্চায়েতকেই এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা উচিত। অ্যাম্বুলেন্স মূলতঃ মুমূর্ষু রোগীদের জন্য। তাই এখানে রং দেখা উচিত নয়। অপরদিকে নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন,উন্নয়নমূলক কাজে আমরা কোনো রং দেখি না। তাই বিধায়কের উন্নয়ন তহবিলের ৮ লাখেরও বেশি টাকায় একটি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হল সিপিআইএম পরিচালিত মায়াপুর বামনপুকুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতকে। এদিন প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বিডিও মনিশ নন্দী ও পুরপিতা বিমান কৃষ্ণ সাহা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। তারা বলেন এই উদ্যোগ গ্রহণে এলাকার মানুষ প্রত্যেকেই খুব উপকৃত হবেন।