পুলিশ ও হসপিটাল কর্মীদের যৌথ উদ্যোগে রক্তদান শিবির কালনায় II শীতে এলার্জির হাত থেকে বাঁচতে পার্থেনিয়াম নিধন কর্মসূচী II পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রথম ক্রেতা সুরক্ষা মেলা

 

 

 

পূর্ব বর্ধমান জেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র হলো কালনা হসপিটাল। এই কালনা হসপিটালের পুলিশ ক্যাম্প ও কালনা হসপিটালের কর্মীদের যৌথ উদ্যোগে হসপিটালে রক্তের সংকট নিরসনে এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। এই রক্তদান শিবিরে রক্তদান করেন কালনা হসপিটালে সুপার চন্দ্রশেখর মাইতি, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গৌতম বিশ্বাস সহ হসপিটালের বিভিন্ন কর্মী এবং কালনা থানার পুলিশ কর্মী ও সিভিক ভলেন্টিয়াররা। এ প্রসঙ্গে কালনা হসপিটালের সুপার চন্দ্রশেখর মাইতি জানান, হসপিটালে রক্তের সংকট মেটানোর লক্ষ্যে পুলিশ ও কালনা হসপিটালের কর্মীদের যৌথ উদ্যোগে এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন প্রশংসার দাবি রাখে। শিবিরে ১০০ জন ডোনারের টার্গেট রাখা হয়েছে। এদিন রক্তদান শিবির শুরু হওয়ার পূর্বে কালনা হসপিটালে উপস্থিত হয়ে পুলিশ ও হসপিটাল কর্মীদের এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে যান মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তিনি বলেন, সামাজিক কাজে এইভাবে এগিয়ে আসা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করুক। মানবিক মূল্যবোধ আরও বেশি করে জেগে উঠুক সর্বত্র।

 

 

প্রতিবছরই শীত পড়তে না পড়তেই ঠান্ডা লাগা, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জির প্রকোপ নজরে পড়ে। আর তার সঙ্গে পার্থেনিয়ামের রেণু যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তোলে । সেই কথা মাথায় রেখেই বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বর্ধমানের ঐতিহ্যপূর্ণ স্কুল রাজ কলেজিয়েট স্কুলে চালালো পার্থেনিয়াম নিধন কর্মসূচী। পার্থেনিয়ামের ফুল ফোটার ঠিক আগের সময়ে অর্থাৎ এই সময়ে পার্থেনিয়াম বিনষ্ট করা গেলে তা চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব। সংস্থার সম্পাদক প্রলয় মজুমদার জানান, শীতের সময় অ্যালার্জির প্রকোপ শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। আর পার্থেনিয়ামের রেণু বাতাসে যুক্ত হয়ে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তাই স্কুল প্রাঙ্গণ, কলেজ প্রাঙ্গণ কিংবা রাস্তায় পার্থেনিয়ামের প্রকোপ থেকে নিস্তার পেতে বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়। পার্থেনিয়ামের প্রকোপ থেকে নিস্তার পেতে এবং এক সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির এই কর্মসূচী বলে জানান প্রলয়বাবু।

 

 

 

আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্রেতা সুরক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত হবে বর্ধমান শহরের উৎসব ময়দানে। তারই প্রস্তুতি বৈঠক হয়ে গেল পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসক ভবনে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই মেলা এবারই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, এই মেলায় পূর্ব বর্ধমানের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপু র, বীরভূমের বোলপুর এবং নদীয়ায় নবদ্বীপ মহকুমাকে অংশগ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। বিপ্লববাবু বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে অনলাইনে বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে ক্রেতারা প্রতারণারও শিকার হচ্ছেন। এই ধরণের প্রতারণার হাত থেকে কিভাবে তারা বাঁচবেন সে বিষয়ে এই মেলা থেকে তাদের বার্তা দেওয়া হবে।
জেলাশাসক আয়েশা রাণী এ জানিয়েছেন, এই ক্রেতা সুরক্ষা মেলায় মোট ৬২ টি স্টল থাকবে। প্রতিটি স্টল থেকেই সাধারণ মানুষরা ক্রেতা সুরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন রকম তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। চিকিৎসা পরিষেবা সহ জমিজমা ও ফ্ল্যাট কেনাবেচা, এইসব ক্ষেত্রেই যাতে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার না হন সে বিষয়ে তাদের যথাযথভাবে সচেতন করা হবে।