স্কুলে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ! পড়ুয়াদের শৌচাগার ভাঙাচোরা, শিক্ষকদের ‘ঝা-চকচকে শৌচাগার’, তীব্র ক্ষোভ
১৭ জুন বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি রাজু চন্দ্রের উদ্যোগে এলাকার বিভিন্ন অংশ এবং বিদ্যালয়ে ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচীর অঙ্গ হিসেবেই বর্ধমান শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত খাজা আনোয়ার বেড় হাইস্কুলে পৌঁছোন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। কিন্তু সেখানে পা রাখতেই কার্যত চক্ষু চড়কগাছ পরিস্থিতি হয় তাঁদের। পড়ুয়া ও শিক্ষকদের বৈষম্য, মাঠজুড়ে জঙ্গল
অভিযান চলাকালীন স্কুলের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে চারদিকের জঙ্গল দশা। এরপরই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে একগুচ্ছ অভিযোগ পেয়ে স্কুলের অন্দরমহল পরিদর্শনে যান রাজু চন্দ্র সহ অন্যান্য বিজেপি কর্মীরা। দেখা যায়, পড়ুয়াদের ব্যবহারের জন্য থাকা শৌচাগারটি অত্যন্ত ভগ্ন ও বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। অথচ এর ঠিক বিপরীতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাথরুমটি একেবারেই ‘ঝা-চকচকে’। শুধু তাই নয়, স্থানীয়দের অভিযোগ— দীর্ঘদিন ধরে এই স্কুলে কোনো পরিচালন কমিটিই নেই।
মর্নিং প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিস্ফোরক দাবি
একই চত্বরে চলে একটি মর্নিং প্রাইমারি স্কুলও। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ:
: মর্নিং স্কুল হওয়ার কারণে তাঁদের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়। প্রধান শিক্ষকের জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি ছোট্ট অফিস রুম।
চারিদিকে জঙ্গল হয়ে থাকায় প্রায়শই বিষধর সাপ বেরিয়ে আসে। সাপ দেখে মাঝেমধ্যেই পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।
হাইস্কুল খোলার পরেই নাকি মর্নিং স্কুলের ইলেকট্রিসিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়! প্রচণ্ড গরমে আলো-পাখা না চলায় মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা।
মর্নিং স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। আজ এখানে জনপ্রতিনিধিরা এসেছিলেন, আমরা তাঁদের কাছেও আমাদের সমস্ত অভিযোগ জানালাম।”
পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি মন্ডল সভাপতি রাজু চন্দ্র। তিনি দাবি করেন, “বিগত সরকার রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক্কেবারে তলাানিতে ফেলে দিয়েছে। আজ এই স্কুলে আমরা অভিযান চালালাম। আগামী দিনে যে যে স্কুলের এইরকম বেহাল দশা সামনে আসবে, আমরা প্রতিটিতে অভিযান চালাব।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষাঙ্গনের এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং বর্তমান পরিস্থিতির হাল ফেরাতে প্রয়োজনে তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রী— সকলের কাছেই লিখিত আবেদন জানাবেন।



