1
জামালপুরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা ব্লক প্রশাসনের
মাত্র একদিন আগে জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের কালারাঘাটে ঝুমা বাউরি, পরান বাউরি ও টিপু বাউড়ির ঘর আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। ফলে অসহায় হয়ে পড়েন এই পরিবারগুলির সদস্যরা। ঘরে সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তাদের খাবার সংস্থান পর্যন্ত নেই। এই পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ালো জামালপুর ব্লক প্রশাসন। জামালপুর ব্লক অফিসে তাদের হাতে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের স্পেশাল কিট তুলে দেওয়া হয়। যার মধ্যে রান্নার স্টোভ, বালতি, মগ, কড়াই, খুন্তি, জগ সহ কাপড়, লুঙ্গি, ১২ কেজি করে চাল রয়েছে। এইসব সামগ্রী অসহায় পরিবারগুলির হাতে তুলে দেন পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ভূতনাথ মালিক, বিডিও পার্থসারথী দে, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান প্রমুখ। মেহেমুদ খান বলেন, আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ায় দুটি পরিবার সমস্যায় পড়ে। তাই তাদের সরকারি ভাবে আজ সাহায্য করা হলো। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদাই সব দিকে নজর রাখেন। তাই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সাহায্য করার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের পক্ষ থেকে সাহায্যের ব্যবস্থা করেছেন। সেই সাহায্যই তুলে দেওয়া হলো আজ। তিনি বলেন, ব্লক প্রশাসন অসহায় এই মানুষদের পাশে অবশ্যই থাকবে। প্রয়োজনে তাদের আরও সহযোগিতা করা হবে।
2
সংস্কৃতি অ্যানেক্স হলে ডেঙ্গুর হার বৃদ্ধি রোধে কর্মশালা, কিডস প্রদান
২০২৪ সালে জেলার যে সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, সেই সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই শুখা মরশুম থেকেই ডেঙ্গু রোধে উদ্যোগ গ্রহণের বার্তা দেওয়া হলো। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়। এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২৫ মার্চ বর্ধমান সংস্কৃতি অ্যানেক্স হলে ১০ টি পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ, জয়েন্ট বিডিও এবং ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, ওই সমস্ত এলাকার ভিসিটি ও ভিএসটি কর্মীদের নিয়ে এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্লকের বিএমওএইচ ও জয়েন্ট বিডিওরাও। এ প্রসঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, এদের সকলের উপস্থিতিতেই বলা হয় এই সুখা মরশুম থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা যা করণীয় তা করতে হবে। গত বছর যে ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল সেইসব গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং সেইসব পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষদের এ বিষয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্বনাথ বলেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তারপর প্রস্তুতি নেব এই ধরনের মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। তারজন্য প্রত্যেককেই বলা হয়েছে পরীক্ষার আগে পড়াশোনা নয়, পড়াশোনাটা করতে হবে সারা বছর। অর্থাৎ ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন থেকেই যা যা প্রচেষ্টা নেওয়ার তা নিতে হবে। একই সঙ্গে এদিন জেলার প্রতিটি এলাকার ভিএসটি টিমের সুপারভাইজারদের হাতে ডেঙ্গু রোগ মোকাবিলায় ব্যবহৃত কিডস তুলে দেওয়া হয়। তার মধ্যে রয়েছে গ্লাভস, গামবুট, বর্ষাতি, অ্যাপ্রন ও মাস্ক। এগুলি যথাযথ ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ এখন থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু করার কথা বলা হয়।
3
খণ্ডঘোষে ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭০ টা বুথে ভোটার তালিকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি পর্যবেক্ষণ
জেলার খন্ডঘোষ ব্লকে ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৭০ টা বুথে ভোটার তালিকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে। এই ব্লকের দশটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রতিটি বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূলের কর্মীরা এই কাজ ধারাবাহিকভাবে করছেন বলে জানালেন খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম। তিনি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের প্রতিটি এলাকায় ভোটার তালিকায় ভুতুড়ে ভোটার রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য তৃণমূলের প্রত্যেক নেতৃত্ব ও কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মতো খন্ডঘোষ ব্লকে এই কাজ শুরু করা হয়েছে। এখানকার ১৭০ টা বুথে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বুথ এজেন্টরা এ ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছেন। অপার্থিব জানান, গত বিধানসভা নির্বাচনে এই ব্লক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এখানে তৃণমূলের প্রার্থীরা বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হয়েছেন। গত লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা এলাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনেও খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আবারও তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে যিনি দাঁড়াবেন, তিনিই জয়যুক্ত হবেন। অপার্থিব বলেন, আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই মানুষের পাশে থেকে তৃণমূলের নেতৃত্ব ও কর্মীদের সবরকম ভাবে তাদের সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। আমরা তাঁদের সেই আদেশকে মান্যতা দিয়ে সারা বছরই এলাকার মানুষের পাশে থাকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রত্যেকের পান সেই দিকে নজর রাখি। এখনও আমরা এখানকার স্থানীয় ভোটাররা যাতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে ব্যাপারে নজর রাখছি।


